আযাযীল শয়তানের সৃষ্টি কাহিনী। আযাযীল শয়তানের সৃষ্টি কাহিনী আল্লাহ তাআলা জাহান্নামে দুইটি আকৃতি সৃষ্টি করেছেন, একটি সিংহ ও অন্যটি নেকড়ের আকৃতি। আল্লাহর কুদরতে উভয় আকৃতি সিজ্জীন জাহান্নামে গিয়ে পরস্পরে উপগত হয়। এতে আযাযীল শয়তানের জন্ম হয়। আযাযীল সেখানে থেকে হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাকে সজদা করে। অতঃপর জমিনের প্রত্যেক স্তরে হাজার বছর করে এবাদত করে জমিনের উপরিভাগে আসে। আল্লাহ তাআলা তাকে সবুজ যবরজদ পাথরের দুইটি ডানা দান করেন। উভয় ডানায় ভর করে সে প্রথম আসমানে গিয়ে এক হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাকে সজদা করে। এতে তার নাম খাশে’ অর্থাৎ, বিনয়ী হয়ে যায়। প্রথম আসমান থেকে সে দ্বিতীয় আসমানে গিয়ে হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাকে সজদা করে।
দ্বিতীয় আসমানের অধিবাসীরা তার নাম রাখে আবেদ- এবাদতকারী। তৃতীয় আসমানে গিয়েও সে হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সজদা করে। সেখানে তার নাম হয় সালেহ নেককার। চতুর্থ আসমানেও সে হাজার বছর পর্যন্ত এবাদত করে এবং ওলী নামে সম্বোধিত হয়। পঞ্চম আসমানে গিয়ে হাজার বছর সজদা করলে তার নাম হয় আযাযীল। এভাবে ষষ্ঠ এবং সপ্তম প্রত্যেক আসমানে গিয়ে সে হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সজদা করে। সারকথা, আসমান ও যমীনের এমন আধা বিঘত জায়গাও অবশিষ্ট ছিল না যেখানে আযাযীল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশে সজদা করে নাই। অবশেষে আরশে মোআল্লার উপর গিয়ে ছয় হাজার বছর পর্যন্ত এবাদত করে সজদা থেকে মাথা উঠিয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে নিবেদন জানাল- ইয়া আল্লাহ। আমাকে লওহে মাহফুজের উপর উঠিয়ে লও, যাতে, আমি তোমার কুদরত দেখতে পারি এবং আরও বেশী বেশী করে তোমার এবাদত করতে পারি।
আরো পড়ুন: বাদশা শাদ্দাদের এর জীবনী | শাদ্দাদের বেহেশতের কাহিনী
আরো পড়ুন: যমযম কূপ কিভাবে সৃষ্টি হয় | জমজম কূপের ইতিহাস
আল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীক ফেরেশতা ইসরাফীল (আঃ)-কে হুকুম করলেন তাকে লওহে মাহফুজে তুলে নিতে। লওহে মাহফুজের উপর উঠলে তার নজর এক লেখার উপর গিয়ে পড়ে।
তাতে লেখা ছিল- এক বান্দা ছয় লাখ বছর পর্যন্ত তাঁর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার এবাদত করবে বটে, কিন্তু আল্লাহর উদ্দেশে একটি সজদা না করার দরুন তার ছয় লাখ বছরের এবাদত বিনম্ন করে আল্লাহ তাআলা সমগ্র সৃষ্টিকুলে তার নাম ইবলীস মরদুদ অর্থাৎ, অভিশপ্ত ইবলীস নামে প্রকাশ করে দেবেন। এই লেখা দেখে ইবলীস সেখানে দাঁড়িয়ে ছয় লাখ বছর পর্যন্ত কান্নাকাটি করে। আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে আওয়াজ এল- হে আযাযীল। যে বান্দা আমার আনুগত্য ও আদেশ পালন না করে, তার শাস্তি কি হওয়া উচিত? আযাযীল উত্তর করল- ইয়া আল্লাহ। যে আপন রবের নির্দেশ না মানে, তার শাস্তি হচ্ছে লানত- আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হওয়া। আল্লাহ তাআলা বললেন, আযাযীল। তুমি একথাটা লেখে রাখ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, আযাযীল অভিশপ্ত মরদুদ হওয়ার বার হাজার বছর পূর্বে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আযাযীল বলেছিল- যে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে তার উপর আল্লাহর লা’নত হোক। তখন সে কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত জান্নাতের খাজাঞ্চী থাকার হুকুম হয়। আর কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী সেখানকার একদিন এই দুনিয়ার এক হাজার বছরের সমান। সে জান্নাতে নূরের এক মিম্বর স্থাপন করে তাতে বসে হাজার বছর পর্যন্ত ওয়ায-নসীহত এবং পাঠ দান করতে থাকে। জিবরাঈল, মীকাঈল, ইসরাফীল ও আযরাঈল (আঃ) সহ সকল ফেরেশতা সেই মিম্বরের সম্মুখে বসে আযাযীল ইবলীসের ওয়ায-নসীহত শুনতেন। একদা ফেরেশতা সকল পরস্পরে বলাবলি করছিল- আমাদের থেকে কোন গোনাহ প্রকাশ পেলে আমরা আযাযীলকে সুপারিশকারী বানাব, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের গোনাহ মাফ করবেন। একদা ফেরেশতাদের নজর লওহে মাহফুজের উপরিস্থ সেই লিপির প্রতি পড়ে যাতে লেখা ছিল- ছয় লাখ বছর এবাদত করার পরও শুধু একটি মাত্র সজদার আদেশ অমান্য করাতে আল্লাহর এক বান্দা অভিশপ্ত মরদুদ হবে- তা দেখে ফেরেশতারা সকলে মিলে কান্নাকাটি করতে এবং মাথা পেটাতে শুরু করেন। তখন আযাযীল বলল- আজ তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কান্নাকাটি করছ আর মাথা পেটাচ্ছ? ফেরেশতারা বললেন, লওহে মাহফুজে লেখা রয়েছে- আমাদের মধ্যকার একজন অপদস্থ অভিশপ্ত হবে। একথা শুনে আযাযীল বলতে লাগল, আল্লাহ যেন তা আমার ভাগ্যে করেন। সকলে একথা শুনে নীরব হয়ে যায়।
একদিন আযাযীল আল্লাহ তাআলার দরবারে আরজ করল- ইয়া আল্লাহ! জ্বিনেরা জমিনের উপর থেকে পরস্পরে খুন-খারাবী করে। আমাদেরকে তাদের উপর সিপাহসালার করে পাঠান, তাহলে আমি গিয়ে তাদেরকে মেরে ফেলব। আল্লাহ তাআলা তার নিবেদন কবুল করেন। তখন আযাযাীল চার হাজার ফেরেশতা সঙ্গে করে জমিনে এসে জ্বিনদ্রের কিছুকে হত্যা এবং কিছুকে কোহেকাফের উপর নিক্ষেপ করে জমিনকে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের থেকে মুক্ত করেন।
Info Guru BD Education is the key to unlocking the world






