যমযম কূপ কিভাবে সৃষ্টি হয়? বর্তমানের যমযম কূপের কাছে শিশু পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে রেখে হযরত হাজেরা (আঃ) পানিপ্রাপ্তির আশায় সাফা মারওয়া পাহাড়ে দৌড়াতেন। এভাবে সাত বার দৌড়ান, কিন্তু কোথাও এক ফোঁটা পানির চিহ্নমাত্র দেখতে পেলেন না। দৌড়াদৌড়ি আর মানসিক দুশ্চিন্তায় হযরত হাজেরা (আঃ)-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যায়। সাফা মারওয়ায় সাত বার দৌড়ানো শেষে এসে দেখলেন, হযরত ইসমাঈল (আঃ)-কে যেখানে শুইয়ে রাখা হয়েছিল, তাঁর পায়ের আঘাতে আঘাতে সেখানে পানির একটি ফোয়ারা প্রবাহিত হয়েছে এবং পানি ভূমির উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পানি দর্শনে হযরত হাজেরা (আঃ) আনন্দিত উৎফুল্ল হয়ে বলে উঠলেন, আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে এমন পুণ্যবান সন্তান দান করেছেন। সুতরাং প্রবাহিত এই পানি পান করেই তিনি পরিতৃপ্ত হন, আর মাটি ও পাথর কুড়িয়ে এনে চতুর্দিকে স্থাপন করে এ পানি আবদ্ধ করেন। বর্ণিত আছে, হযরত হাজেরা (আঃ) যদি নির্দিষ্ট সীমানায় এ পানি আবদ্ধ না করতেন তাহলে কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র আরব ভূখণ্ডেই এ পানির ধায়া প্রবাহিত হত।
হযরত হাজেরা (আঃ)-এর সাথে যা খাদ্যদ্রব্য ছিল তা নিঃশেষ হয়ে যায়। ফোয়ারার প্রবাহিত পানি পান করেই মাতা পুত্রের জীবন রক্ষা হচ্ছে। ঘটনাক্রমে একদিন এক বণিক কাফেলা পিপাসার্ত চতুষ্পদ জীব সহকারে পানির খোজে সাফা পাহাড়ের পাশে এসে দেখতে পেল, এক ললনা শিশু পুত্রকে বক্ষে ধারণ করে ফোয়ারার পাড়ে উপবিষ্ট রয়েছেন। এর পূর্বে কখনও তারা এ জায়গায় পানি দেখে নাই। এতে তারা অত্যন্ত বিস্মিত হয়। তারা হযরত হাজেরা (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে, কেনই বা একাকিনী শিশু পুত্রকে নিয়ে জনমানবশূন্য স্থানে বসে আছেন। হাজেরা (আঃ) তাদেরকে নিজের ও শিশু পুত্রের এখানে আগমন এবং পানিপ্রাপ্তির ইতিবৃত্ত শোনান। তারা বলল, অনুমতি হলে আমরা আপনার প্রতিবেশী হয়ে এখানে বসবাস করব এবং পানির বিনিময়স্বরূপ প্রতিবছর আপনাকে ওশর দান করব। হযরত হাজেরা (আঃ) তাদের প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। তারা সেখানে তাঁবু স্থাপন করে উট ও ছাগল বকরী মাঠে ছেড়ে দেয়। এই বণিক কাফেলার লোকেরা দীর্ঘ কাল পর্যন্ত এখানে বসবাস করে। – ইতিমধ্যে হযরত ইসমাঈল (আঃ) বয়োপ্রাপ্ত হন। হাজেরা (আঃ) পশম বুনে নিজের ও পুত্রের আহার জোগাতেন। অনেক দিন পর হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর অন্তরে হাজেরা ও পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে দেখার আকাঙ্ক্ষা জাগে। তাঁর ভাবনা- আল্লাহই ভাল জানেন, এমন জনমানবশূন্য, খাদ্য পানীয়বিহীন স্থানে মা-ছেলে না জানি কত দুঃখে-কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। মনে আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আঃ) হযরত সারাহ (আঃ)-এর নিকট হাজেরা, (আঃ) ও পুত্র ইসমাঈলকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু অঙ্গীকার আদায় করলেন যে, আপনি সেখানে সওয়ারী হতে অবতরণ করবেন না এবং তাদেরকে এক নজর দেখে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি চলে আসবেন।
আরো পড়ুন: কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ | ৬ টি সম্পদের খাত দেখুন
হযরত ইবরাহীম (আঃ)ও উল্লিখিতরূপ অঙ্গীকার করে বায়তুল মোকাদ্দাস হতে বের হয়ে মরুভূমির পথ ধরেন। মক্কা শরীফে বায়তুল্লাহর পাশে উপনীত হয়ে দেখতে পেলেন, লোকজন উট বকরী চরাচ্ছে, কেউ বা বসে আছে আর কেউ এদিকে সেদিকে ঘোরাফেরা করছে। তারা কেউই তাঁকে চিনত না। হাজেরা দূর থেকে দেখে তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে আসেন, কিন্তু হযরত ইবরাহীম (আঃ) সারাহ (আঃ)-এর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করে সওয়ারী থেকে নীচে অবতরণ করলেন না। হযরত হাজেরা (আঃ হযরত ইসমাঈল (আঃ)-কে ডেকে বললেন, দেখ। তোমার আব্বা এসেছেন। তিনি আব্বারে দেখতে পেয়ে অত্যন্ত খুশী হন।
এ সময় হযরত ইসমাঈল (আঃ) কিছুটা বড় হয়েছেন। হযরত হাজেরা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে বললেন, আপনি সওয়ারী হতে নামুন যাতে আপনার হাতপ ধুয়ে দিতে পারি। তখন ইবরাহীম (আঃ) হযরত সারার সাথে কৃত অঙ্গীকারের কথা বললে হযরত হাজেরা (আঃ) একটি পাথর এনে তার উপর রেখে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর পা ধুয়ে দেন। দ্বিতীয় আরেকটি পাথর এনে সেটির উপর রেখে আরেক পাও ধুয়ে দেন। কথিত আছে, ে পাথরের উপর হযরত ইবরাহীম (আঃ) পদ স্থাপন করেছিলেন, আজকে সেটাই মানুষের নামাযের স্থান। যেমন- আল্লাহ বলেন, وَاتَّخِذُوا مِنْ تَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصلّى )ওয়াত্তাখিযু নিম মাকামি ইবরাহীমা মুসাল্লা) অর্থাৎ, তোমরা ইবরাহীম (আঃ)-এর পদস্থাপনের স্থানকে মোসাল্লা ব নামাযের জায়গা বানাও। অবশেষে হযরত হাজেরা ও পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে এক নজর দেখে হযরত ইবরাহীম (আঃ) বায়তুল মোকাদ্দাসে ফিরে যান। সেখানে তিনি সরাইখানা বানিয়ে আল্লাহর বান্দাদের মেহমানদারী করতেন।
Discover more from Info Guru BD
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Info Guru BD Education is the key to unlocking the world






