হযরত শীষ আঃ এর জীবনী ও মূর্তিপূজার ঘটনা। হযরত শীস (আঃ) ভাইদের সবার বড় এবং সবার চাইতে বেশী মর্যাদাবান ছিলেন। আবার এণ্ড কথিত আছে, হাবিলের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর হযরত শীস (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। হাবিলের উত্তম বিনিময় হিসাবে আল্লাহ হযরত আদম (আঃ)-কে এ পুত্র সন্তান দান করেন। তওরাতের বর্ণনানুসারে তখন হযরত আদম (আঃ)-এর বয়স একশ ত্রিশ বছর। শীস (আঃ) অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর স্বভাব চরিত্র ছিল পিতার অনুরূপ। তাই আদম (আঃ) তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করেন। অন্য ভাইদের ইহজাগতিক বিষয়সমূহে তিনি শরীক থাকতেন বটে, কিন্তু নিজে কিছুই করতেন না। ফসল তোলার মৌসুমে ভাইয়েরা তাঁর অংশ ঘরে পাঠিয়ে দিতেন। অন্য ভাইদের সকলের তরিতরকারি, খাদ্য শস্য নিঃশেষ হয়ে গেলে তারা তাঁর থেকে ঋণ নিয়ে প্রয়োজন মেটাত। একবার ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করলে, এ বছর আমরা শীস (আঃ)-কে ফসল দেব না এবং তার ঋণ ফিরিয়ে দেব। কেননা, কোন কাজেই সে আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করে না। অলস বসে থেকে ফাও আমাদের থেকে অংশ নেয়। এবছরই আল্লাহ তাআলা হযরত শীস (আঃ)-কে পয়গম্বরী এবং কিতাব দান করেন যাতে তিনি স্বজাতিকে শরীঅত শেখাতে আর দ্বীন ও ঈমানের পথ দেখাতে পারেন। এরপর সব ভাই তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ও অনুগত হয়।। তাঁর উপর ঈমান স্থাপন করে এবং উৎপন্ন ফসলাদির এক দশমাংশ তাঁকে প্রদান করতে থাকে।
এ দ্বারাই তিনি পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির ভরণ-পোষণ করতেন। হযরত শীস (আঃ) অধিকাংশ সময় আদম (আঃ) হতে জান্নাতের বিভিন্ন বস্তুর অবস্থা সম্পর্কে জানতেন এবং অবতীর্ণ ওহীর মর্মার্থ জিজ্ঞাসা করতেন। কিছু দিন পর তাঁর এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, যার নাম রাখা হয় আনুশ। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে হযরত শীস (আঃ) অস্থায়ী জগত হতে বিদায় নেন। শীস পুত্র আনশও দীর্ঘকাল পর্যন্ত পিতার দ্বীনের উপর বিদ্যমান থেকে মৃত্যুবরণ করেন। আনুশের পরে স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র কীনান। তিনিও পিতা আনুষ্ঠ্য ও পিতামহ শীসের দ্বীনের উপর দৃঢ়পদ থেকে মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহবান জানাতে থাকেন এবং সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করে মৃত্যুবরণ করেন। কীনানের পরে মাহলাইল নামক তাঁর এক পুত্র স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত হন। মাহলাইল এত সুন্দর সুপুরুষ ছিলেন যে, সমগ্র জগতে তাঁর মত সুন্দর সুদর্শন সুপুরুষ আর কেউ ছিল না। দূরদূরান্তর থেকে লোকজন তাঁকে দেখার জন্য হাদিয়া উপঢৌকন নিয়ে আসত। অবশেষে তাঁর বংশধরদের এত সম্মান-মর্যাদা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি জনসমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তাদের সমকক্ষ অন্য কেউ ছিল না। তাঁর অনেক সন্তান জন্ম নেয়। অবশেষে তিনিও সত্য পবিত্র দ্বীনের উপর বিদ্যমান থেকে ইহজগত হতে বিদায় গ্রহণ করেন। মূর্তিপূজা শুরুর কাহিনী এযদ নামে মাহলাইলের এক পুত্র সন্তান ছিল। কেউ কেউ এ মাহলাইল পুত্রের নাম আওস বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বুযুর্গ ছিলেন। মাহলাইল ইহজগত থেকে বিদায় হয়ে গেলে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এযদ অপর বর্ণনা মতে আওসের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনেক অনেক হাদিয়া উপঢৌকন সঙ্গে করে নিয়ে আসত। তাঁর সাক্ষাত না পেলে আগন্তুকরা হতাশ নিরাশ মনে ফিরে যেত।
আরো পড়ুন: হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর কাবা পুনঃ নির্মাণ | মুল কাহিনি জানুন
একদা অভিশপ্ত ইবলীস অপরিচিত লোকের আকৃতি ধারণ করে মাহলাইলের সন্তানাদির নিকট এসে বলল, মাহলাইলের সাক্ষাতে আগত লোকজন তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট। কেননা, দূরদারাজ থেকে লোকজন তোমাদের পিতার সাক্ষাতে এসে সাক্ষাত বঞ্চিত হয়ে দুঃখভরা মন নিয়ে ফিরে যায়। মাহলাইল সন্তানরা মানবরূপী ইবলীসকে জিজ্ঞাসা করল, তা হলে কি করা যায়? ইবলীস বলল, তোমরা তোমাদের পিতার হুবহু একটি প্রতিকৃতি বানাও। তাহলে তাঁর সাক্ষাতে আগত লোকজন সে প্রতিকৃতির সঙ্গে সাক্ষাত করে এবং সেটির পূজা করে আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে। সাক্ষাত হতে বঞ্চিত হবার বেদনা আর তাদের থাকবে না। এতে তোমাদেরও মান-সম্মান বাড়বে। তা না করলে তোমরা সমগ্র জগতের লোকজনের নিকট হীন নীচ বলে সাব্যস্ত হবে। ইবলীসের এসব মনোলোভা মন ভুলানো কথাবার্তায় অবশেষে মাহলাইল সন্তানদের সবাই তাঁর প্রতিকৃতি নির্মাণে সম্মতি প্রকাশ করে। মাহলাইলের কথিত প্রতিকৃতিও নির্মিত হয়। অভিশপ্ত ইবলীস সেটির উপর বোরকা ছড়িয়ে দেয়। তৎকালীন দুনিয়ার চতুর্দিক থেকে লোকজন এসে মাহলাইলের প্রাণহীন প্রতিকৃতি দেখে চলে যেত। বেশ কিছু দিন এভাবেই চলতে থাকে। ইতিমধ্যে মাহলাইল বংশ দ্বীনী এলেম ও দ্বীনী আলেম শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে তাদের সবাই গোমরাহ পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। এই সুযোগে অভিশপ্ত ইবলীস শয়তান তাদেরকে মূর্তিপূজায় জড়িয়ে ফেলে। এরপর ইবলীস আরেক সম্মানিত বংশকে প্রবঞ্চিত করে এই ভ্রান্তিতে পতিত করে যে, তোমাদের বাপ-দাদা পূর্বপুরুষ মাহলাইলের প্রতিকৃতির পূজা করত। সুতরাং তোমাদেরও এই প্রতিকৃতির পূজা করা আবশ্যক। এতে মাহলাইলের আত্মা তোমাদের উপর খুশী হবে এবং তোমরা অনেক ধন সম্পদের মালিক হবে। সুতরাং ইবলীসের প্রতারণা প্রবঞ্চনার জালে বন্দী হয়ে এরাও মাহলাইলের প্রতিকৃতির পূজা শুরু করে দেয়। মাহলাইলের প্রতিকৃতির পূজার অনুসরণে ধীরে ধীরে সমগ্র দুনিয়ায় মূর্তিপূজা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু দিন পরে এ বংশেই আখনুখ নামে এক ছেলে জন্ম নেন, যাঁকে ইদরীস পয়গম্বর বলা হয়।
Discover more from Info Guru BD
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Info Guru BD Education is the key to unlocking the world






